Take a fresh look at your lifestyle.

বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না

১৪৭

বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি, আমাদের রাজপথে আন্দোলনে থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আন্দোলনের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। আমরা নিয়ম-নীতিতে বিশ্বাস করি। বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির এটাই হচ্ছে প্রভেদ।

রোববার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ড. আব্দুল মঈন খান। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

মঈন খান বলেন, ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে এই সরকার চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। তাদের পায়ের নিচে মাটি সরে গিয়েছে। জনগণই হচ্ছে একটি দেশের সরকারের ভিত্তি। সেই জনগণের ভিত্তি আজকে সরে গিয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ শূন্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। যেকোনো মুহূর্তে এই সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়। বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, এই রাষ্ট্রের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এই রাষ্ট্রের মালিক হচ্ছে জনগণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, জনগণ সব ক্ষমতার উৎস। জনগণ তাদের সেই ক্ষমতা পাঁচ বছরের জন্য কারো উপরে দেয়, প্রতিনিধি সৃষ্টি করে। কেননা ১৮ কোটি মানুষ তো দেশ শাসন করতে পারে না। সংসদে ৩০০ জন প্রতিনিধি থাকে, তারা একটি সরকার গঠন করে। সেই সরকার যদি ভুল করে যে, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে, যেটা আজকে সরকার করেছে, তাহলে কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করবে।

বিএনপি ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেনি দাবি করে ড. মঈন আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতার আন্দোলনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে। আমরা অন্দোলনে আছি, জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তাদের ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, অর্থনৈতিক সাম্যের অধিকার, মানবাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

ক্ষমতার লোভ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছিল না জানিয়ে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, তিনি অত্যন্ত সরল জীবন যাপন করতেন। বিত্ত বৈভবের লোভ লালসা তিনি তার জীবনে কখনো দেখাননি। তিনি উৎপাদনের রাজনীতি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অর্থনীতির চালিকা শক্তি যদি আমরা সচল করতে না পারি, তাহলে স্বাধীনতার কোনো মূল্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির মঈন খান বলেন, আজকে দেশে দ্রব্যমূল্যের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মানুষের জীবন ধারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে চালের দাম, ডালের দাম কত হয়েছে দেখুন। এক রাতে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা হয়ে যায়। এগুলো কার অদৃশ্য খেলা? এই অবস্থা তো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ছিল না। মুক্তবাজার অর্থনীতির কল্যাণে তিনি একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি বাংলাদেশে উপহার দিয়েছিলেন। এটাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনের অর্জন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাড. ফজলুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.